গত ৮ আগস্ট স্থানীয় ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিলে তার নেতৃত্বে শঙ্করকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
মৃত শঙ্কর মণ্ডল ধামরাইয়ের পশ্চিম কায়েত পাড়া এলাকার বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।
মৃতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিল থেকে মোটরের একটি যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরিতে জড়িত থাকার সন্দেহে শঙ্করকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন মিল মালিক। শঙ্করের সঙ্গে তার বাবা ও স্থানীয় অপর এক ব্যক্তিও মিলে যান। তবে বাবা ও সেই ব্যক্তিকে বাইরে পাঠিয়ে মিলের ভেতরে শঙ্করকে মারধর করেন মিল মালিক। এতেও শঙ্কর চুরির বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি না দিলে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আর্থিক সংকুলান না থাকায় পরিবার তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনে। আহত অবস্থায় বাড়িতে থাকাকালে সাত দিন পর আজ শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
মৃতের বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমার ছেলে আমার সঙ্গে কাজ করে। এরপরও আমার ছেলে চুরি করছে বলে খবর পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আমিসহ তাকে নিয়ে মিলে গিয়েছি। তারপর আমাদের বের করে দিয়ে তাকে ভেতরে মারধর করে। রাতে ছেড়ে দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারা ঢাকায় নিতে বলে। কিন্তু টাকা নাই কিভাবে নিব। আজ আমার ছেলে মারা গেছে।
মিল মালিক ডেকে নেওয়ার সময় শঙ্করের সঙ্গে মিলে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, শঙ্করের বাবা আমার এলাকার প্রতিবেশি। চুরির বিষয়ে অন্য একজনের কথা অনুযায়ী তাকে ধরে নিয়ে যায়, জিজ্ঞেস করার কথা বলে। তখন আমরা শঙ্কর ও তার বাবাসহ মিলে যাই। তখন বলে, আপনেরা বাইরে যান। আমি ও ওর বাবা বাইরে চলে যাই। তখন ভেতরে তাকে মারধর করে। যখন বের করে দেয় ও হাঁটতে পারে না। এরপর আজ তার মৃত্যু হয়।
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পরিবারের অভিযোগ, ওয়াজেদ হাজি নামে এক ব্যক্তি রাইস মিলের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগস্ট শঙ্করকে মারধর করে। তাকে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তারা ঢাকায় নিতে পরামর্শ দেয়। তবে আর্থিক কারণে তারা নিতে পারেনি। আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। আমরা মরদেহের সুরতহাল করেছি। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।