বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে দেশ যখন বিপদের মধ্যে পড়েছিল, ঠিক সেই সময়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান সিপাহী-জনতার সমর্থনে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় কৃষি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে দেশ আবার পথ হারালে জিয়া পরিবারের হাত ধরে উন্নয়নের পথ ফিরে পেয়েছিল। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বারবার সেই উন্নয়ন ধ্বংস করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে মাত্র সাত মাস হলো ক্ষমতায় এসেছে। এরই মধ্যে আমরা সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করছি। মানুষকে বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে মানুষকে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে পারব।’
বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২০ বছর দেশে মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট করা হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন শেষ হয়ে যায় না। সেই অবকাঠামো টেকসই রাখা, সময়মতো সংস্কার করা এবং মানুষের কাছে কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়াও স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে করা বিভিন্ন উন্নয়নকাজ এখন ধ্বংসপ্রায়। অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষকে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো কলঙ্ক গায়ে নেবে না। স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
গাইবান্ধার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধাসহ সারা দেশের মানুষকে বাসযোগ্য পরিবেশ দিতে সব ধরনের উন্নয়ন করা হবে। বগুড়ার উন্নয়ন হলে তার সুফল অন্যান্য জেলার তুলনায় গাইবান্ধার মানুষ আরও বেশি পাবে। যোগাযোগ, অবকাঠামো ও স্থানীয় সরকারের সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও পায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
মতবিনিময় সভায় গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও জেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় রংপুর বিভাগীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় সভায় যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। পরে বিকেলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও সমন্বয় সভায় অংশ নেন তিনি।