বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, কদলপুর ইউনিয়নের ওই এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বাধীন চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাইয়ের পর বুধবার রাতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতর থেকে কয়েকজন সদস্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়।
এ ঘটনায় এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই রবিউল হোসেনসহ ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি ও গুলিবিনিময়ের সুযোগে অন্যরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো স্থান থেকে একটি ডিবিবিএল দোনলা বন্দুক, একটি এসবিবিএল একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে একই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।