এসব অভিযোগ নজরে এসেছে জানিয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, গ্রাহকদের ভোগান্তি ও উদ্বেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রাহকদের সচেতনতার জন্য ডিপিডিসি কর্তৃক স্পষ্টীকৃত প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ডিমান্ড চার্জ কর্তনের নিয়ম
ডিপিডিসি জানিয়েছে, গ্রাহকের অনুমোদিত লোডের বিপরীতে প্রতি মাসে একবার ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয়। কোনো গ্রাহক যদি কোনো মাসে মিটার রিচার্জ (ভেন্ডিং) না করেন, তবে পরবর্তী সময়ে রিচার্জ করার সময় আগের রিচার্জ না করা মাসগুলো এবং বর্তমান মাসের ডিমান্ড চার্জ একসঙ্গে কেটে নেওয়া হবে।
উদাহরণস্বরূপ: ‘এলটি-আবাসিক’ শ্রেণির কোনো গ্রাহকের অনুমোদিত লোড যদি ২ কিলোওয়াট হয় এবং তিনি যদি টানা ৩ মাস রিচার্জ না করেন, তবে জুন ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা হারে ৩ মাসের ডিমান্ড চার্জ বাবদ একসঙ্গে (২ কিলোওয়াট × ৪২ টাকা × ৩ মাস) = ২৫২ টাকা কাটা হবে। এই নিয়মটি সকল পোস্ট-পেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।
মিটার রেন্ট বা ভাড়া
গ্রাহক যদি নিজের টাকায় প্রিপেইড মিটার কিনে স্থাপন করেন, তবে তার ক্ষেত্রে কোনো মিটার রেন্ট প্রযোজ্য হবে না। তবে মিটারটি যদি ডিপিডিসি সরবরাহ করে থাকে, সে ক্ষেত্রে প্রতি মাসে একবার সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের জন্য ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া কাটা হবে। কোনো কারণে মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহক যদি নিজস্ব অর্থায়নে নতুন মিটার কেনেন অথবা নতুন সংযোগের সময় নিজে মিটার কিনে স্থাপন করেন, সে ক্ষেত্রেও কোনো মিটার রেন্ট কাটা হবে না।
ভ্যাট কর্তন
বিদ্যুৎ বিলের ওপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট প্রযোজ্য। গ্রাহক যখনই প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করবেন, তখন রিচার্জকৃত মোট অর্থের ওপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা করার জন্য কর্তন করা হয়।
ট্যারিফ পরিবর্তন ও দীর্ঘ টোকেন সমস্যার সমাধান
বাংলাদেশে বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহারে একাধিক ট্যারিফ ধাপ রয়েছে। মিটারের কারিগরি বৈশিষ্ট্যের কারণে ট্যারিফ বা বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের পর প্রথমবার রিচার্জের সময় নতুন এই মূল্যহার মিটারে সক্রিয় করার জন্য ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের একটি দীর্ঘ টোকেন তৈরি হয়। তবে পরবর্তী বা দ্বিতীয়বার রিচার্জের ক্ষেত্রে আগের মতোই সাধারণ ২০ ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করা যাবে। ২২০ ডিজিটের বড় টোকেন মিটারে প্রবেশ করানো গ্রাহকদের জন্য কষ্টকর হওয়ায় ডিপিডিসি এই মিটারগুলোকে পর্যায়ক্রমে অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে ডিপিডিসিতে ‘এএমআই’ (AMI) প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে কোনো ম্যানুয়াল টোকেন টাইপ করার প্রয়োজন হয় না। এই মিটারগুলো বিকাশ, রকেটসহ যেকোনো অনলাইন মাধ্যমে অত্যন্ত সহজে রিচার্জ করা যায়।
‘ভূতুড়ে বিল’ বা অতিরিক্ত টাকা
ডিপিডিসির দাবি, প্রিপেইড মিটারে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত বিল বা কোনো তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ কাটার কোনো কারিগরি সুযোগ নেই। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যহার অনুযায়ী ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটার থেকে কাটা হয়। তবে কমন নিউট্রালজনিত কারিগরি ত্রুটি বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া প্রিপেইড মিটারে অস্বাভাবিক বিল আসার কোনো সুযোগ নেই।
ছুটির দিন ও ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’-এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এবং প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়কে ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। এ সময় মিটারটি নেগেটিভ ব্যালেন্সে সচল থাকে এবং পরবর্তী রিচার্জের সময় ওই ব্যালেন্সের টাকা সমন্বয় করা হয়। এ ছাড়া এনার্জি ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে গ্রাহক মিটারে ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ সক্রিয় করে জরুরি বিদ্যুৎ সুবিধা নিতে পারেন, যা পরবর্তীতে রিচার্জের সময় কেটে নেওয়া হয়।
অভিযোগ ও প্রতিকার
ডিপিডিসি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, কোনো গ্রাহক যদি অস্বাভাবিক বিল কাটা, বিলিং সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা কারিগরি ত্রুটির কারণে আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুখোমুখি হন, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, অভিযোগ কেন্দ্র অথবা ডিপিডিসির হটলাইন নম্বর ১৬১১৬-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ জানানোর সময় গ্রাহক ও মিটার নম্বর প্রদান করলে তা যাচাই করে দ্রুত সংশোধনমূলক ও প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।