শনিবার (৯ মে) বিকালে চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতদিন বিদেশে অদক্ষ কর্মী বেশি যাওয়ায় অনেকে কাঙ্ক্ষিত জীবনমান অর্জন করতে পারেননি, তাই এখন আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ জোর দিচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি মেরিন এবং ১০৪টি সাধারণ টিটিসি। এসব কেন্দ্রে ৫৮টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, টিটিসিগুলোর অবকাঠামো অনেক ক্ষেত্রে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চেয়েও ভালো, তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে একই ধরনের কার্যক্রম ভিন্ন ভিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো-সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থের অপচয় কমিয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
নুরুল হক নুর জানান, বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর বাইরে আরও ৫০টি নতুন টিটিসি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের মতো প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে নতুন কেন্দ্র স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্থানীয় প্রভাব বা তদবিরের কারণে যেখানে প্রশিক্ষণার্থীর চাহিদা কম, সেখানে অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, অনেক টিটিসিতে এখনো পুরোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা টিটিসিগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ সুবিধা দিয়ে উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি যাতে কর্মীরা বিশ্ববাজারের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন, ব্যক্তিগত সহকারী জ্যোতিষর পালসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।