স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ইউনিয়ন ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে হাওড়া নদীর পানিও বাড়ছে। নদীর বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বিশেষ করে আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন জাজিরপুল খাল দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েকটি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাতেও পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আবদুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, অনেক কষ্ট করে এবং বেশি দামে জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। পাহাড়ি ঢলের পানিতে এখন সব তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে কীভাবে আবার ধান লাগাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।
বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়াও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইউপি সদস্য রহিম মিয়া বলেন, পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়নের এলাকায় প্রায় আড়াইশ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা খুব কম থাকবে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।