ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আলীম শেখ এর আগে "আব্দুল হক' নামে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নে কেন্দ্র শিক্ষক পদে চাকরি করেন। এ সময়ে তিনি প্রায় মোট পাঁচ লাখ টাকা সম্মানি ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলাধীন জলঢাকা উপজেলার কদমতলী মোড় এলাকায় অবস্থিত রিসোর্স সেন্টার পরিচালনার জন্য সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ঐ পদে আব্দুল আলীম শেখ নামে আবেদন করে তিনি নিয়োগ পান।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদনের সময়ও তিনি আগের চাকরির তথ্য গোপন করেন। একই সঙ্গে নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী রিসোর্স সেন্টারের দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে আবেদনকারীর বাড়ি থাকার কথা থাকলেও আব্দুল আলীমের বাড়ি সেখান থেকে প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া তিনি দাওরা পাসের যে সনদপত্র দিয়েছেন, সেটিও ভুয়া বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগে 'সাধারণ কেয়ারটেকার' পদে আবেদনকারী অন্য প্রার্থীরা প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে আব্দুল আলীমকে প্রধান কার্যালয়ে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানি শেষে কাগজপত্র যাচাই করে নামের গরমিল, তথ্য গোপন ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে 'সাধারণ কেয়ারটেকার' পদে তার নিয়োগ বাতিল করেন প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম।
তবে নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়ায় বর্তমান উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, আব্দুল আলীমের নিয়োগ হয়েছিল সাবেক উপপরিচালক এ কে এম জাকিউজ্জামানের সময়ে। ফলে নিয়োগের সময়কার তথ্য যাচাই বা নিয়োগ দেওয়ার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না।
সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদনকারী স্হানীয় বাসিন্দা বকুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন বলেন, আব্দুল আলীম ভুয়া তথ্য দিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে আব্দুল হক নামে তিনি একই প্রকল্পে কেন্দ্র শিক্ষক পদে চাকরি করেছেন। পরে একই ব্যক্তি আব্দুল আলীম শেখ নামে সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদন করে নিয়োগ পান। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার নিয়োগ বাতিল হয়েছে। এখন নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মিথ্যা বদনাম ছড়াচ্ছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আলীম শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি কোনো সদোত্তর দিতে না পেরে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম বলেন, ‘আব্দুল আলীমের নিয়োগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কারণ আমার সময়ে ঐ পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয় নি।সাবেক উপপরিচালকের সময়ে তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তথ্য গোপন ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আমার সময়ে এসে তার নিয়োগ প্রকল্প দপ্তর কর্তৃক তদন্ত শুনানী শেষে বাতিল হয়েছে। এখন তিনি এই নিয়োগ বাতিলের জন্য আমাকে দায়ী করছেন, যা মোটেও কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আব্দুল আলীম এখন বলছেন, আমি তার কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছি এবং সে কারণে তার নিয়োগ আটকে রেখেছি, এটি চারদিকে বলে বেড়াচ্ছে । এটি সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ মিথ্যা তথ্যের জন্য তার নিয়োগ প্রকল্প দপ্তর বাতিল করেছেন, সুতরাং তার নিয়োগ আটকে রাখার কোন এখতিয়ার উপপরিচালকের নাই।
এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মানহানির জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।’
নিজ অফিসের গেস্ট রুম অবৈধভাবে দখল করে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে মোছাদ্দিকুল আলম বলেন, ‘আমার দাপ্তরিক কাজের চাপ বেশি থাকলে মাঝে মাঝে গেস্টরুমে অবস্হান করতে হয়। এটি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। অফিসের গেস্টরুমে থাকা মানেই সেটিকে অবৈধভাবে দখল করে থাকা নয়। সাধারণত এ ব্যবস্হা প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরেই আছে।'
উল্লেখ্য যে, উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম নীলফামারীতে যোগদানের পরে সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী বৃদ্ধি, সরকারি যাকাত ফান্ডে যাকাত আদায় বৃদ্ধিসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের গতি আরো বেগবান হয়, তাঁর অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এবং উপরিচালকের নেতৃত্বে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে নিরপেক্ষভাবে মোট ৬২ জন শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ সম্পন্ন হয়, যা ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে।
তাঁর যোগদানের পূর্বে শিক্ষক নিয়োগে দালাল চক্রের দৌরাত্ম ধ্বংস হয়,যার কারণে অসাধু দালাল চক্র ইসলামিক ফাউন্ডশেন অফিসে অবৈধ সুবিধা না পেয়ে উপপরিচালকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা করছে।
উপপরিচালক তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আরো বলেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে পেশাদারিত্বের সাথে প্রকৃত তথ্যসহ সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান।