বৃহস্পতিবার সৌদি জোট জানায়, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি।
জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত।
তবে হুতিদের পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ওই সূত্রের ভাষ্য, এর আগে মক্কায় হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগও তুলেছিল সৌদি জোট, যার প্রমাণ দিতে পারেনি তারা। সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই মদিনায় হামলার নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তখন সৌদি জোট এটিকে ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলে দাবি করেছিল। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট আরও দাবি করেছে, হুতিরা মসজিদে নববি ও মক্কার মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মুসলিমদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে জোটটি। একই সঙ্গে পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে তারা।
এদিকে হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলার কথা জানিয়েছেন। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে সৌদি জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।