খুলনার ফুলতলা আমলী আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে তারা এমন তথ্য দিয়েছেন মিন্টু সানা (২৭)। আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এর একদিন আগে গ্রেফতার হন রবিউল ইসলাম নাঈম।
পুলিশ জানায়, সৌরভ সরকার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মোঃ আওয়াল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বুধবার দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ লাইন থেকে মিন্টু সানাকে গ্রেফতার করে। রবিউল ইসলাম নাঈম ফুলতলার গাড়াখোলা গ্রামের আতিয়ার রহমান বিশ্বাসের পুত্র ও মিন্টু সানা কয়রা থানার মানিখাল গ্রামের রমেশ চন্দ্র সানার পুত্র।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার ফুলতলা আমলী আদালতে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে তাদেরকে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ২৪ আগষ্ট সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত সহকর্মী ও গাড়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম নাঈমের আমন্ত্রনে তাদের বাড়িতে আসেন মিন্টু সানা। স্বর্ণ ব্যবসায়ী সৌরভ সরকারের সাথে নাঈমের অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে ঘটনার দিন (২৪/০৮/২০২৪) রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পার্শ্ববর্তী বিলডাকাতিয়াস্থ তবিবুর রহমানের ঘেরের পাড়ে নিয়ে হত্যা ও সেখানেই গর্ত করে পুতে রাখা হয়। তবে নাঈমের এই ধরনের পরিকল্পনা মিন্টু সানা জানতেন না বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনের অদূরের ভাড়া বাসা থেকে রবিউল ইসলাম নাঈমকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ ও ৫দিনের রিমান্ডাবেদন জানান হয়। আদালত পরবর্তীতে রিমান্ড আবেদন শুনানীর দিন ধার্য এবং নাঈমকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা রাতে বেজেরডাঙ্গা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সৌরভ সরকার নিখোঁজ হন। ঘটনার ৪দিন পর এলাকাবাসী বিলডাকাতিয়াস্থ তবিবুর রহমানের ঘেরের পাড়ের একটি গর্তের মধ্যে মানুষের পা দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সৌরভের পিতা ধীমান সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত এবং নিজে বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন (নং-৯, তারিখ-২৮/০৮/২৪)। তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুক্তরায় চৌধুরী ক্লুলেস এ মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গাড়াখোলা গ্রামের রাজু খাঁ ওরফে কালা রাজু এবং সাইফুল ইসলাম সবুজকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মাদক সেবন ও বেচাকেনা সংক্রান্ত লেনদেনের জের ধরে এ ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে। গ্রেফতারকৃত ৪ আসামী ছাড়াও ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।