অভিযোগ উঠেছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করার পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সময় যত গড়াচ্ছে, হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তত বাড়ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ নামের প্যাকেটজাত দুধের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান শিক্ষকরা। এ ছাড়া কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো আকার ধারণ করেছিল। বিষয়টি শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা ওই কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানান। একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে দুধের প্যাকেটের ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ খেয়ে পরীক্ষা করেন। তিনি দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান এবং সব শিক্ষার্থীকে দুধ খেতে বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা দুধ খাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পেট ব্যথা, খিচুনি ও মাথা ঘোরাসহ বিভিন্ন উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলমান অবস্থায় প্রথম দিকে ওই বিদ্যালয়ের অসুস্থ ১৬-১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়ায়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, ‘দুধ খাওয়ার পর থেকে আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমরা দুধ বিতরণের সময়ই দুধের প্যাকেটে ফুটো ও দইয়ের মতো চিত্র দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাই। একই সঙ্গে দুধ বিতরণ না করার জন্য বলি। তবে স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন স্কুলে এসে নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। এরপরই ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। পরে আমরা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করি।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৬-১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই ভালো আছেন। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতালে গিয়েছি। তাদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুধ পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করে কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’