বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়াকোলা গ্রামের রাহাত খানের প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে আরকে অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। এখানে গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়াও পালন করা হয়। শুধু মোটাতাজাকরণ নয়, খামারে বীজ ও বাচ্চা উৎপাদনের কাজও চলছে।
বর্তমানে খামারে শাহিওয়াল, সিন্ধি, গির, ব্রাহমা, অংগোল, ফ্রিজিয়ান ও ভুট্টি জাতের গরু রয়েছে। কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করা হয়, যার মধ্যে কিছু গরুর দাম ৩ লাখ থেকে শুরু করে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
রাহাত খান বলেন, তিনি ইংল্যান্ড থেকে ল’ ও বিজনেসে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তার বিশ্বাস, “কোনো পেশাই ছোট নয়। হালালভাবে উপার্জন করা যায় এমন সব কাজই সম্মানের।”
শুরুর সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতা
রাহাত জানান, খামার শুরু করা সহজ ছিল না। শুরুতে মাত্র ৯টি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে খামার সম্প্রসারিত হয়।
তিনি বলেন, “প্রথমে কেউই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। তবে সফলতা আসার পর সবাই ইতিবাচকভাবে দেখছে।”
শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গরুর রোগবালাই, বাজার অনিশ্চয়তা ও অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে সেসব কাটিয়ে ওঠেন তিনি।
বিদেশি শিক্ষা ও ব্যবসার দৃষ্টিভঙ্গি
রাহাত মনে করেন, তার বিদেশে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা খামার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ভিন্ন হলেও শেখা অভিজ্ঞতা সফলতার ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “ব্যবসায় ঝুঁকি আছে, তবে সেখানেই সম্ভাবনাও বেশি।”
কর্মসংস্থান ও পরিচালনা
খামারে বর্তমানে কয়েকজন স্থায়ী কর্মী কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার আব্দুল বারী জানান, ২৪ ঘণ্টাই গরুর যত্ন নিতে হয়। খামারে নিয়মিত খাদ্য প্রদান, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।
শ্রমিক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে গরুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাবার দেওয়া ও গোসল করানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়।
বাজার ও বিক্রি
খামারের গরুগুলো শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ও পরিচিতির মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি ১৩ লাখ টাকার দুটি গরু বিক্রি হয়েছে বলেও জানান খামার সংশ্লিষ্টরা।