ভৌগোলিক দিক থেকে পর্যটনের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড। মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ও নাপিত্তাছড়ার মতো অসংখ্য পাহাড়ি ঝর্না এবং মহামায়া লেক পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। অন্যদিকে, সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় যেমন ধর্মীয় তীর্থস্থান, তেমনি গুলিয়াখালী সৈকত ও ইকোপার্ক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।
আনোয়ারা উপজেলায় কোরিয়ান ইপিজেড ও কাফকো সার কারখানার মতো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কর্ণফুলী টানেলের সংযোগ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মীরসরাইতে গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। নতুন গঠিত কর্ণফুলী উপজেলাও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কৃষি সম্পদেও পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম। চন্দনাইশের সুস্বাদু পেয়ারা ও লেবু এবং ফটিকছড়ির বিশাল চা বাগান জেলার অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। বিশেষ করে হাটহাজারীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক রুই জাতীয় মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্মভূমি রাউজান উপজেলা বর্তমানে চুয়েটের কারণে ‘শিক্ষানগরী’ হিসেবে সমাদৃত। দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ তার ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া পটিয়ার দই ও মিষ্টির সুখ্যাতি দেশজুড়ে।
ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ, পটিয়ার আমির ভাণ্ডার এবং বোয়ালখালীর মেধস মুনি আশ্রম জেলাটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পাহাড়, নদী ও সাগরের মিতালীতে গড়া চট্টগ্রামের এই ১৫টি উপজেলা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।