ইতিহাস থেকে জানা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলার আমলে ‘ভাঁটির বাঘ’ নামে খ্যাত শমসের গাজী ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের শাসক, ব্রিটিশবিরোধী নেতা এবং রোশনাবাদ পরগণার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। জনসাধারণের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে তিনি এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি দিঘী খনন করেন। এর মধ্যে শমসের গাজীর দিঘী অন্যতম।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন শমসের গাজী। পিতৃহারা হওয়ার পর তিনি শুভপুরের তালুকদার জগন্নাথ সেনের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে খাজনা আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং চোর-ডাকাত ও জলদস্যুদের দমন করতে শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে জনগণের কল্যাণে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেন।
স্থানীয়দের মতে, ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে তিনি নিহত হন। বর্তমানে সীমান্তবর্তী এই এলাকা শমসের গাজীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে পরিচিত। দিঘী ছাড়াও এখানে তার সুড়ঙ্গসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে।
ঢাকা থেকে বাসে ফেনী যাওয়া যায়। এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনেও ফেনী পৌঁছানো সম্ভব। সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে পরশুরাম উপজেলা হয়ে শমসের গাজীর দিঘীতে যাওয়া যায়।
ফেনী শহরে থাকার জন্য হোটেল বিলাস, হোটেল আল করিম, হোটেল গাজী ও হোটেল মিড নাইটসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রয়েছে।
চম্পক বাজারে হালকা নাস্তার কিছু দোকান রয়েছে। এছাড়া ফেনী শহরে বিভিন্ন মানের রেস্তোরাঁ ও খাবারের হোটেল পাওয়া যায়।