সরেজমিনে দেখা গেছে, গুজিয়া ঈদগাহ মাঠ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণে গুজিয়া-আমতলী সড়কের পাশে করতোয়া নদী সংলগ্ন জমিতে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে নির্মাণ শুরু হলেও পরে নদীর অংশ ভরাট করে কলাম স্থাপনের মাধ্যমে ভবনের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক সীমানা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর অংশে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কারণে ভবিষ্যতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে। তাদের ভাষায়, “নদী দখলের বিরুদ্ধে সরকার যখন কঠোর অবস্থানে, তখন প্রকাশ্যে নদীর বুকে ভবন নির্মাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে মোঃ আজিজুল হক বলেন, “আমি নদীর জায়গায় বাড়ি করেছি, সেটা প্রশাসন দেখবে। ভেঙে দিলে আমার ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হবে, এর চেয়ে আর বেশি কিছু হবে না।”
তার এই বক্তব্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “নদী জনগণের সম্পদ। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে নদী দখল করতে পারে না। অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে মোকামতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, করতোয়া নদী রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও দখল ও ভরাটের অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নদীর অস্তিত্ব সংকটের এমন সময়ে গুজিয়ার এই নির্মাণকাজ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—করতোয়ার তীর কি আবারও প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে?
এখন স্থানীয়দের চোখ প্রশাসনের দিকে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এবং নদী দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ নদী শুধু জমি নয়, এটি একটি অঞ্চলের ইতিহাস, পরিবেশ ও ভবিষ্যতের