রোববার (১৪ জুন) বিকেলে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন, সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানুষ অপেক্ষা করলেও, এখনো কোনো স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়িত হয়নি।
রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এই আমির বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিস্তা পানিবণ্টন প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৮৩ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে একটি অস্থায়ী সমঝোতা এবং ২০১১ সালে একটি স্থায়ী চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হলেও, তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতি শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার বুকে চরম পানি সংকট দেখা দেয়, যার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে দুই তীরের মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতে বহু মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে পড়েন। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি সদস্য সচিব ও রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রায়হান সিরাজী, উপদেষ্টা ও রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, মাওলানা এনামুল হক, আব্দুল গনি এবং অ্যাডভোকেট কাওছার আলী।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী খনন, ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অথচ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প অগ্রাধিকার পেলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলো হলো- তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ; তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা; প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ; তিস্তাপারের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুধু উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি নয়, এটি জাতীয় উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের জন্যও অপরিহার্য। তারা চলমান জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের দাবি জানান।
এ সময় দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২০ জুন মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির আওতায় লালবাগ থেকে ডিসির মোড়, তিস্তা সেতু থেকে কাউনিয়া এবং মহিপুর থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।