তিনি শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে মহেশপুর থেকে দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পেশাজীবীদের সংগঠন 'মহেশপুর অফিসার্স ফোরাম'-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঝিনাইদহের মহেশপুরের কৃতী সন্তান ব্যারিস্টার কাজল তাঁর নাড়ির টানের কথা উল্লেখ করে বলেন, "ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে আমি এমন সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে চাই, যাতে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনের বিশাল জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।"
আঞ্চলিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপেই যেন মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়, সে লক্ষ্যে আমি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নীর মাধ্যমে ডিও (আধা-সরকারি পত্র) প্রদান করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও আমার সদর্থক কথা হয়েছে।"
এলাকার স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নে নিজের অগ্রাধিকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক দত্তনগর কৃষি ফার্মকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা আমার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিউর রহমানের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমার অনুরোধে আইনমন্ত্রী মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে ডিও লেটারও দিয়েছেন।"
একই সাথে কোটচাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বলুহর বাওড়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের মৎস্য প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রের শীর্ষ এই আইন কর্মকর্তা।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও চোরাচালান রোধ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "মহেশপুর-কোটচাঁদপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারের (এসপি) সাথে কথা বলেছি। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে আরও কঠোর ও তৎপর ভূমিকা পালন করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের সাথে কথা হয়েছে। বিজিবি প্রধান আমাকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন।"
জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সফলভাবে পালনে এবং এলাকার সার্বিক কল্যাণে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে 'মহেশপুর অফিসার্স ফোরাম'-এর সভাপতি ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের কৃতি সরকারি ও পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের এসব জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।