স্থানীয় সূত্র জানায়, সুয়াদী স্ট্যান্ড এলাকায় একটি ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যান মহাসড়কে উল্টে গেলে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় মহাসড়কে মানুষের জটলা তৈরি হয়। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮৭৬৭) একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উদ্ধারকাজে থাকা লোকজনের ওপর উঠে যায়।
ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন— সুয়াদী গ্রামের ওবায়দুল শেখ (৪৫), পিতা: আবু শেখ; জয়নাল (৩২), পিতা: লিটন মিয়া; নুর নবী (১২), পিতা: তুহিন শেখ এবং পরিচয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি (প্রায় ৩৫)। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিন থেকে চারজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের তিনটি যাত্রীবাহী বাস ও দুর্ঘটনাকবলিত ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া অন্তত ১৫ থেকে ২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
দুর্ঘটনার জেরে সন্ধ্যা থেকেই ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ, আহতদের উদ্ধার এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেন।
ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, হতাহতের সঠিক সংখ্যা এবং অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ছবির ক্যাপশন (যদি ব্যবহার করেন):
ভাঙ্গার সুয়াদী স্ট্যান্ড এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে পুড়ছে যাত্রীবাহী বাস; ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।