সকালে গ্রামের ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন জামায়াত আমির। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ফাতিহা পাঠ করেন এবং আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে উপস্থিত হন।
পরে মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও অধিকার নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষ্য, “আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।”
তার আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। তিনি গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে স্বাগত জানান। উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন জামায়াত আমির।
এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে তিনি সার্কিট হাউস থেকে ধুনটের উদ্দেশে রওনা হন।
কবর জিয়ারত ও স্থানীয় কর্মসূচি শেষে সকাল পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে তার। পরে দুপুর ১২টায় বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ধুনটের এই সফরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যও উপস্থিত মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে কবর জিয়ারত, শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরে জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য—দিনের কর্মসূচিতে এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্ব পায়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।