আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তিটির কোনো মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নেই। তবে চুক্তির বিস্তারিত বা খসড়া কিছুই এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চমৎকার সম্পর্ক হতে যাচ্ছে।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। একই সঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথা জানিয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল এবং ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্র। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে পিটুফিক মহাকাশ ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
তখন ট্রাম্পের ঘোষণার পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের সরকারপ্রধান ইয়েনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন আলাদা বিবৃতি দেন।
ফ্রেডেরিকসেন চুক্তিটিকে তিন পক্ষের জন্য দারুণ একটি চুক্তি বলে উল্লেখ করলেও স্পষ্ট করেন, এতে ডেনমার্কের রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণকে তিনি অত্যাবশ্যক বলেও উল্লেখ করেছেন।
২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে তার সহযোগীদের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছিলেন। সে সময় তিনি বিষয়টিকে বড় ধরনের আবাসন চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে ডেনমার্ক বরাবরই বলে আসছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে গত বছর পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়ে যায়।
চলতি বছরের শুরুতে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময়ও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপীয় দেশগুলো তার অবস্থানের বিরোধিতা করলে তিনি ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড। আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে দ্বীপটির গুরুত্বও বাড়ছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবও তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের বড় অংশ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেন।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এর মধ্যে একটি হবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এবং অন্যটি পূর্ব উপকূলে। তবে এসব চুক্তির অংশ কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।