অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো যোগ্যতা না থাকলেও ডা. জাফরকে এই অবৈধ কার্যক্রমে নিয়মিত সহযোগিতা করছেন স্বনামধন্য ওষুধ কোম্পানি এসিআই (ACI)-এর প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টেটিভ) ফিরোজ নামের এক ব্যক্তি।
এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ডা. জাফর নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তার কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাক্তারি ডিগ্রি, বিএমডিসি (BMDC) রেজিস্ট্রেশন কিংবা হোমিওপ্যাথি বোর্ডেরও অনুমোদন নেই। কেবল স্থানীয় কিছু প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও বংশগত পরিচয়ের ওপর ভর করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই চিকিৎসা পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো কোনো রোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন না দিয়েই তিনি রোগীদের বিভিন্ন উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে থাকেন। এমনকি ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীকেও 'ক্যান্সারের রোগী' বানিয়ে অপচিকিৎসা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়েছে এ প্রতিবেদকের ক্যামেরায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভুয়া ও অপ্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। সচেতন মহল অবিলম্বে এ ধরনের অবৈধ চিকিৎসালয় ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম জানান, ভুয়া ও ডিগ্রিহীন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ও তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত অবৈধ চিকিৎসালয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।