সোমবার ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যাংকের পক্ষে সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামি সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দন এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত সৈয়দ নজরুল আলমের ছেলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পারভেজ ফরিদপুর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে আরও ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আসল, সুদ ও বিলম্ব সার্ভিস চার্জসহ বর্তমানে তাঁর কাছে মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা রয়েছে।
ব্যাংকের অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার পর নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় তিনি ঋণখেলাপিতে পরিণত হন। পাওনা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি সময়ক্ষেপণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠান। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা সরাসরি যোগাযোগ করেও পাওনা অর্থ আদায় করতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাটি গ্রহণের পর আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।
বাদী আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আসামি ঋণের অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। সর্বশেষ পাওনা অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোর পর ব্যাংকের অর্থ আদায়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পারভেজ ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে চেকসংক্রান্ত কয়েকটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছিল এবং তিনি কয় এক মাস ফরিদপুর জেলা কারাগারে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি কাদিরদী বাজারে তাঁর মালিকানাধীন ‘আজকের সারাদেশ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন না থাকার অভিযোগে বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া একটি পত্রিকা হস্তান্তর ও বিক্রির বিষয় নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হলে পারভেজ তা অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।