গত সপ্তাহে প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া আন্দোলনটি পরে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে বিক্ষোভ করছেন। তাদের অভিযোগ, পড়াশোনার সময়সূচি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ অনুপযুক্ত এবং শিক্ষকসহ বিভিন্ন কর্মীর অনুপস্থিতি বেশি।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০০টি শুক্রবার বন্ধ থাকবে। অবরোধ বা ক্ষয়ক্ষতির কারণে যেসব স্কুলে সরাসরি পাঠদান সম্ভব হবে না, সেখানে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে।
জেফ্রের দাবি, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ৬৫ জন শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭০। এছাড়া শতাধিক স্কুলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনে সহিংসতার জন্য কিছু প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করছেন।
প্যারিসে শুক্রবার দুটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেন ও ব্রেস্টসহ বিভিন্ন শহরেও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ব্রেস্টে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে এএফপির এক আলোকচিত্রী জানিয়েছেন।
ফরাসি ন্যায়বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সরকার অভিযোগ করেছে, কট্টর বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবো বা এলএফআই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ম্যানুয়েল বমপা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতের ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শিক্ষার্থীদের বৈধ দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা জানিয়েছে সরকার।
সূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর