পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া এলাকায় ভারতীয় অংশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২৪ ও ২৫ এর বন্যায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়।আন্তর্জাতিক আইনের জটিলতার কারণে বেড়িবাঁধে মেরামত করা সম্ভব হয়নি । ভারতীয়রা তাদের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বা বন্যার সৃষ্টি হলে বাংলাদেশে বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহিত হবে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার যদি এখনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়।বৃহত্তর নোয়াখালী বড় অংশ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অংশেও কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধটি অতি দ্রুত র্নির্মাণ করা হোক।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন, ভারতের যেই বেড়িবাঁধটা মেরামত চলছে এই বেড়িবাঁধটা যদি হয়ে যায়, আমাদের বাংলাদেশের অংশেরবেড়িবাঁধ মূল্যহীন হবে। ঝুঁকি পূর্ণ বেড়িবাঁধ হিসেবে দেখা দেয়।২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকার গঠন করার পর এই বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য প্রকল্প হাতে নিলেও, ভারতের বিএসএফ বাঁধায় বেড়িবাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। সিসি ব্লক বসানোর জন্য। হাজার হাজার ব্লক এখনো বেড়ীবাঁধে পড়ে আছে ভারতের বাঁধার কারণে আমাদের এই বেড়িবাঁধটা মেরামত সম্পন্ন হয়নি। আমাদের এই সিসি ব্লক গুলা অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।
ভারতের বেড়িবাঁধ মেরামত সম্পূর্ণ হলে বর্ষার শুরুতে বাংলাদেশ অংশে ভাঙন সৃষ্টি হবে। এই ভাঙন সৃষ্টির রক্ষার্থে আমি ফেনী ১ আসনের মাননীয় এমপি মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বেড়াবাড়িয়া ও পরশুরাম বাজারসহ প্রায় ৩০ টি গ্রামকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে বেড়িবাঁধটা নির্মাণ করা হোক । ভারতের কাজের সাথে সাথে আমাদের বাংলাদেশের অংশে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।"কিন্তু ভারতের কাজের সাথে মেরামত না হলে পরবর্তীতে বিএসএফ কাজে বাধা দিবে।
উত্তর কোলাপাড়ার ইমরান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তারা কিন্তু ভারত তাদের বেড়িবাঁধটা নির্মাণ কাজ অলরেডি শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেড়িবাঁধটা এখনো নির্মাণ করছে না। বাংলাদেশের বেড়িবাঁধ যদি নির্মাণ না করে আমাদের অত্র পরশুরাম এলাকা, পরশুরাম উপজেলা, সাতকুচিয়া, কোলাপাড়াসহ আসপাশের এলাকা নদী ভাঙনে প্লাবিত হবে।ৎসুতরাং আমাদের বেড়িবাঁধটা অতিসত্বর নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা অনুরোধ করছি।
একই গ্রামের সোহাগ বলেন, বেড়িবাঁধটা খুবই ভঙ্গুর অবস্থায় এবং জাগা জাগা ফাটল ধরা। বর্ষার বন্যার পানি আসলে বেড়িবাঁধটা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাবে। গত ২৪-এর বন্যায় অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে আমাদের গ্রামের মানুষ অনেক অক্লান্ত পরিশ্রম করে বেড়িবাঁধটা মেরামত করে পানিতে থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। কিন্তু এই বন্যায় আমাদের বেড়িবাঁধটা যদি ভেঙে যায়, আমাদের পরশুরাম সহ বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকার প্লাবিত হবে। মানুষ থাকার জায়গা পাবে না, খাওয়ার জায়গা পাবে না। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে জানাই আমাদের এই বেড়িবাঁধটা দ্রুত নির্মাণ করার জন্য। কারণ ভারত তাদের অংশে নির্মাণ করতেছে, আমাদের বেড়িবাঁধটা যেকোনো মুহূর্তে পানি আসলেই ভেঙে যাবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশর (বিজিবি) ফেনী ব্যাটালিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন জানান, দুই দেশের সম্মতিতে বাঁধ সংস্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বল্লামুখা বাঁধ, নিজ কালিকাপুরে একটি কবরস্থানের সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। তারা কহুয়া নদীর বাঁধে তাদের অংশটি সংস্কার করবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বাঁধটি কিভাবে নির্মাণ করা হবে সে বিষয়ে বিজিবির অধিনায়কের সাথে আলোচনা করছি। মানুষ যেভাবে উপকৃত হয় সেভাবেই দ্রুত বাঁধ নির্মাণে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।