শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করছে মাউশি। আগামী সপ্তাহে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে নতুন ভর্তি নীতিমালা জারি করা হবে।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। পরে ওই মেধাতালিকা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘একটি খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে মন্ত্রণালয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করা হবে।’
এদিকে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি বাতিল করে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক পক্ষ লটারি পদ্ধতিকে তুলনামূলক ভালো মনে করলেও অন্য পক্ষ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে।
অভিভাবকদের কেউ কেউ বলছেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যেতে পারে। তা সম্ভব না হলে অন্তত তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লটারি চালু রেখে পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।
তবে শিক্ষাবিদদের অনেকে ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কোচিংনির্ভরতা বাড়বে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, লটারি কিংবা ভর্তি পরীক্ষা—কোনোটিই শিক্ষার্থীদের ভর্তির মূল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাছের বিদ্যালয়গুলোর মান উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট মানে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ঠিক করা, মানসম্মত শ্রেণিকক্ষসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা দূরের নামী প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ছুটবে না।
এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, মন্ত্রী, আমলাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের বাড়ির কাছের বিদ্যালয়ে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের মান দ্রুত উন্নত হবে। মূল সমস্যা সমাধান না করে শুধু ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি নিয়ে আলোচনা করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
যেভাবে লটারি পদ্ধতি চালু হয়
জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু করা হয়।
তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে তখনও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। এরপর থেকে এ পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম চলে আসছে।
এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে প্রথম শ্রেণি বাদে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত অনুমোদন ও জারি হলে প্রায় ছয় বছর পর এসব শ্রেণিতে আবারও ফিরবে ভর্তি পরীক্ষা।