স্বামী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে একসময় মোটামুটি স্বচ্ছলভাবেই চলছিল সালেহার সংসার। স্বামী মারা যাওয়ার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়ের বিয়ে দেন তিনি। এরপর বাসাবাড়িতে কাজ করে নিজের জীবন চালিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষমতা হারিয়ে তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।
দুর্ঘটনার পর প্রায় এক দশক ধরে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল সালেহা এক নারীর সহযোগিতায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন চালাতেন। একসময় সেই সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
সালেহার বর্তমান আবাসস্থল একটি ছোট, জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিন সেখানে বিদ্যুৎ, ফ্যান ও লাইটের ব্যবস্থা ছিল না। কুপির আলোতেই রাত কাটাতে হতো তাঁকে। ভাঙা চকি ও পুরোনো বালিশে কেটে যায় তাঁর দিন-রাত।
কেউ সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে গেলে কোনোভাবে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা হয়। আবার সহায়তা না মিললে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শারীরিক অক্ষমতার কারণে একা দূরে কোথাও যেতেও পারেন না তিনি। বাড়ির পাশেই বসে মানুষের সহায়তার অপেক্ষায় থাকতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সালেহার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারে চার সন্তান রয়েছে। তবে তাঁরাও নিয়মিত সালেহার দেখাশোনা করেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সালেহার দুরবস্থা নজরে আসে রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল খাইরুল ইসলাম সজিবের। পরে তিনি বিষয়টি সাবেক সহ-সভাপতি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সালেহ মূসা ও সোনারগাঁ পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা আলআমিনকে জানান। তাঁদের উদ্যোগে যুবদলের সহায়তায় সালেহার ঘরে বিদ্যুৎ, ফ্যান ও লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে নগদ অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. সেলিম হোসেন দিপু সালেহার বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজ নেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষ থেকে সালেহার ঘরের টিন সংস্কার, বয়স্ক ভাতা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তবে স্থানীয়দের মতে, তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি সালেহার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ বাসস্থান, নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা, চলাফেরার উপকরণ এবং স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে এসব সহায়তা পেলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে অসহায় সালেহার জীবনে।