বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর বারোটার দিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার কেলিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতরাতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম আজাহারুল ইসলাম ওরফে কাওছার (৩৬)। তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার সমাসপুর সূতি গ্রামের বাসিন্দা। ধামরাইয়ের কেলিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। পেশায় তিনি একজন রংমিস্ত্রি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা রেডিও সেন্টারে রান্নার কাজ করেন। আগের সংসারে তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। সাত বছর আগে আজাহারুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আজাহারুল কৌশলে তাঁর দুই সৎ মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। ওষুধ খাওয়ার পর বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ে আলাদা দুটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত চারটার দিকে আজাহারুল তাঁর স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন এবং মুখে কসটেপ পেঁচিয়ে দেন। পরে তিনি বড় মেয়ের কক্ষে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে মায়ের হাতের বাঁধন খুলে দিলে তিনি বড় মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে কিশোরীটি জানায়, এর আগেও একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছেন তার সৎ বাবা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আজাহারুল বাসায় ফিরলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজাহারুলকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।