নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রাতভর মারধরের পর শামিমের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনকে দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে পুলিশের ভাষ্য, চোর সন্দেহে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার মরদেহ বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দাফনে এসে নিজেই হলেন লাশ
নিহতের শাশুড়ি ছোবেদা বেগমের ভাষ্য, তার মেয়ের জামাইয়ের দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শামিম বারপুর এলাকায় গিয়েছিলেন। রাতে তিনি সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর শামিমকে রাতভর বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়।
ভোরে বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শামিমের স্বজনেরা অভিযোগ করছেন, নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, শামিমকে চোর সন্দেহে আটক করা হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ
শামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেন।
তাদের দাবি, শামিম চুরি করেছেন কি না, সেটি তদন্তের বিষয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে আটক করে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অধিকার কারও নেই। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, “চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে নিহতের স্বজনদের করা পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ এবং ইউপি সদস্যসহ অন্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
একটি রাত, একটি সন্দেহ আর একদল মানুষের হাতে আইন তুলে নেওয়া—শেষ পর্যন্ত যার পরিণতি দাঁড়াল একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোকে। শামিমের মৃত্যুর ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, চোর সন্দেহের বিচার কি মানুষের হাতে, নাকি আইনের হাতে?