এই পরিস্থিতি পরিষ্কার করতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA ইরান ফুটবল কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠিয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে তাদের সদর দপ্তরে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, আলোচনা শেষ করতে চায় ফিফা ২০ মে’র মধ্যেই।
বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা ইরান জাতীয় ফুটবল দলের। টুসনে বেস ক্যাম্পে অনুশীলন এবং গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু ক্রীড়া নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এই প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা গেছে ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে, যেখানে ২১১টি দেশের মধ্যে ইরান অনুপস্থিত ছিল। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।
তবে বাস্তব চিত্র আরও জটিল। কানাডা সফরে গিয়ে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভোগান্তির মুখে পড়ার ঘটনাও ইরান দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে প্রস্তুতিতেও বাধা রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের ঘরোয়া লিগ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচও সীমিত। তবু দলটি তুরস্কের আন্তালিয়ায় ক্যাম্প করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন দ্বিমুখী বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে—একদিকে ফিফার নিশ্চয়তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা। জুরিখের আসন্ন বৈঠক তাই নির্ধারণ করতে পারে, ফুটবল সত্যিই মাঠে থাকবে নাকি রাজনীতির প্রভাব আরও গভীর হবে।