টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি লায়ন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একাদশে ছিলেন অপরিহার্য। তবে সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পেস-বান্ধব কন্ডিশন থাকায় চার পেসার নিয়ে নামার চিন্তা করছেন নির্বাচকেরা। এতে স্বাভাবিকভাবেই ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন লায়ন।
ঘরের মাঠে গত অ্যাশেজ সিরিজের শেষ দুই টেস্টে চোটের কারণে খেলতে পারেননি তিনি। পরে বাংলাদেশ সিরিজে দলে ফিরে ডারউইনে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের পাশে একমাত্র স্পিনার হিসেবে খেলেছিলেন। কিন্তু প্রথম টেস্টে দলের হারে ১২৫ রান দিয়ে নেন মাত্র ১ উইকেট। বল হাতে তিনি প্রতিপক্ষের স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে তার থাকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
অধিনায়ক কামিন্স জানান, ম্যাকাই টেস্টে স্কট বোল্যান্ডকে নিয়ে চার পেসারের আক্রমণ নামানোর কথা ভাবা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পিচের বাউন্স ও টার্ন দেখে লায়নকে রাখা হয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ভেঙে পড়লে লায়ন ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন, যার দুটিই ছিল টেল-এন্ডারদের। এই পারফরম্যান্স মূল জয়ে ছোট অনুঘটকের বেশি কিছু ছিল না। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৬৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হওয়ায় পেসারদের দাপটে লায়নের প্রয়োজনই খুব একটা পড়েনি।
এই ব্যাপারে উইকেটকিপার ব্যাতার আলেক্স কেয়ারি লায়নের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘পেসাররাই সব কাজ সেরে দিচ্ছিল। ফলে এই উইকেটে স্পিন ও বাউন্স থাকার পরও লায়নকে তুলনামূলক কম ওভার বল করতে হয়েছে। তবে সে অনেক বছর ধরেই বিশ্বমানের বোলার।’
আগামী নভেম্বরে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া লায়ন অবশ্য এখনো নিশ্চিত যে তিনি টেস্ট খেলার জন্য পুরোপুরি তৈরি। ১৪৩ টেস্টে ৫৭১ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার তার ধার কমেছে বলে মনে করেন না।
তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কোনো নির্বাচক গেলে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বেন। অ্যাশেজের সময় গ্যাবা টেস্ট থেকে বাদ পড়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন লায়ন। ১৩ বছরে ঘরের মাঠে প্রথমবার বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মাথা প্রচণ্ড গরম হয়েছিল। টেস্ট থেকে বাদ পড়া প্রথম বা শেষ খেলোয়াড় আমি নই। তবে আমি সত্যি ভেঙে পড়েছিলাম, কারণ এই মাঠে আমি দলের জন্য কী করতে পারি তা আমার জানা ছিল।’
আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ঘিরে নির্বাচকদের আরও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। পেস-সহায়ক সেই সিরিজে গতি ঝড় তুলতে মুখিয়ে আছেন বোল্যান্ড, যিনি গত অ্যাশেজে ২০ উইকেট নিয়েছিলেন। তাছাড়া অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টার পেসের ঘাটতি মেটাতে পারেন, আর ট্র্যাভিস হেড তো কার্যকর খণ্ডকালীন স্পিন করতেই পারেন।
কেয়ারির মতে, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে লায়ন প্রতিটি ম্যাচেই খেলতে পারে। তবে বিভিন্ন উইকেটের ধরণ দেখে নির্বাচকদের এই বিভিন্নরকম নেওয়ার সুযোগ থাকাটা দলের জন্যই ভালো।’