প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকার উপরে থাকা কোটিপতিদের আমানত কমেছে। ২৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা ও আমানতও কমেছে, তবে ৫০ কোটি টাকার উপরের আমানতকারীদের তুলনায় কম কমেছে। এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ধনাঢ্য ব্যক্তিরা দেশত্যাগ এবং আমানত উত্তোলন করেছেন।
অন্যদিকে, মধ্যম আয়ের লাখপতির সংখ্যা বেড়েছে এবং তাদের সঞ্চয়ও বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকে মাঝারি মানের আমানতকারীর সংখ্যা ও তাদের আমানত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকের ঝুঁকি কমছে, যা ইতিবাচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছোট থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে ১৫ কোটি ৪৮ লাখে পৌঁছেছে। তাদের জমা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
২ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ১১ লাখ ৪৬ হাজারে, জমা বেড়ে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজার থেকে ৪ লাখ ৩৫ হাজারে, জমা বেড়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ১ লাখ ৮২ হাজারে, জমা বেড়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। ১ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকার মধ্যে সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হাজার ৩৯৪ থেকে ৩৮ হাজার ৩১৬, তবে জমা সামান্য কমে ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৮৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়।
অত্যন্ত বড় আমানতকারীদের ক্ষেত্রে ২৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে সংখ্যা ১৪১ থেকে ১০৭, জমা কমে ৪ হাজার ৯০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকায়। ৫০ কোটি টাকার উপরের আমানতকারীর সংখ্যা ৪৪ থেকে ১৩, জমা কমে ৫ হাজার ৪০০ কোটি থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে বড় অঙ্কের আমানতকারী ও জমা অর্থের হ্রাস ঘটেছে, তবে মধ্যম আয়ের লাখপতিদের সঞ্চয় বৃদ্ধি ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।