আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছিলেন, বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হয়েছে।
বিবিসিকে ফাতিহ বলেন, ১৯৭০-এর দশকে আমরা তেলের দামে ধাক্কা দেখেছিলাম। চলমান সংকট সেটির চেয়ে অনেক বড়। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর আমরা প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের যে ঊর্ধ্বগতি দেখেছিলাম, সেটির চেয়ে বিশাল।
১৯৭৩ সালের অক্টোবরে ইয়ম কিপুর যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণে আরব তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে সময় এমন নীতির পাশাপাশি তেল উৎপাদনে সমন্বিতভাবে কাটছাঁটও করা হয়েছিল। ক্যারল নাখলে বলেন, এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়।
তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোতে জ্বালানি রেশনিং (সীমিত বণ্টন) শুরু হয়। নাখলে জানান, এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকট তৈরি করেছিল। প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
এরপর বিশ্বের তেলের বাজারে দ্বিতীয় ধাক্কা আসে ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের মাধ্যমে।
এবার এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সরু হরমুজ প্রণালিতে কার্যত জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যেখান থেকে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল রপ্তানি হয়।
জাহাজ চলাচল বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেন বলছেন, এক মাসেরও বেশি সময় আগে পারস্য উপসাগর ছেড়ে আসা তেলের একটি বড় চালান এখনও বিশ্বের বিভিন্ন শোধনাগারে যাচ্ছে। কিন্তু সেই প্রবাহ হয়তো শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন তেলের বর্তমান ঘাটতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেবে। বিস্ময়করভাবে আগামীকাল হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও উদ্ভূত সংকট কাটতে সময় লাগবে।
জেনসেন সতর্ক করে বলছেন, আগামীতে জ্বালানি ব্যয় বাড়বে। সংকট কেটে গেলে দাম কমে যাবে বিষয়টা এমন নয়। বরং এর প্রভাব অন্তত ৬ মাস থেকে ১ বছর স্থায়ী হবে।
তবে ক্রিস্টল এনার্জির প্রধান নির্বাহী ক্যারল নাখলে বলছেন, ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় বর্তমান তেলের বাজার অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। এছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির আকারের তুলনায় তেলের সামগ্রিক ব্যবহারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
নাখলে বিশ্বাস করেন, বর্তমানে তেলের দাম চড়া থাকলেও এই সংকট ১৯৭০-এর দশকের মতো অতটা তীব্র নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে সরবরাহ ঘাটতির ব্যাপকতা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কিন্তু এটিও মানতে হবে- বর্তমান বাজার ৫৫ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল। বাজার এখন অনেক বেশি বহুমুখী। তেলের ওপর নির্ভরতা আগের চেয়ে কম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত মজুত ও বিকল্প ব্যবস্থা আছে।