খাতুনগঞ্জ, বকশির হাট ও রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে মসলার সরবরাহ পর্যাপ্ত। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং যৌথ পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার হওয়ার প্রবণতায় গত বছরের তুলনায় এবার আশানুরূপ বেচাকেনা নেই। প্যাকেটজাত মসলার দিকে ঝোঁক বাড়ায় গোটা মসলার চাহিদা কিছুটা পড়তির দিকে।
বাজারে বর্তমানে মানভেদে ভারতের এলাচ ৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং আমেরিকান এলাচ ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মানভেদে ৬০০ থেকে ৯৬০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মরিচের দাম। ৩ মাস আগে যে মরিচ ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৪২৫ থেকে ৪৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০ টন এলাচ এবং ১৩ হাজার ২৯৬ টন দারুচিনি ছাড়পত্র পেয়েছে। আদা ও রসুনের সরবরাহও গত বছরের তুলনায় সন্তোষজনক।
পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কম থাকলেও খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৪০ টাকা এবং চীনা রসুন ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা পর্যায়ে তা বেশ চড়া। লবঙ্গ ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৪৮০ এবং সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
খোলা গুঁড়ো মসলায় ভেজালের ভয় থেকে সচেতন ক্রেতারা ভিড় করছেন পাইকারি বাজারে। অনেকেই গোটা মসলা কিনে রোদে শুকিয়ে কলঘরে ভাঙিয়ে নিচ্ছেন। নগরের মোমিন রোড বা বিবিরহাটের কলঘরগুলোতে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। মরিচ ও মসলা গুঁড়ো করতে কেজিপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। তবে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে জিরার সঙ্গে ক্যারাওয়ে বীজ বা তুষ মেশানোর ঘটনা ধরা পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ জানান, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা মসলার কারণে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত, কিন্তু ক্রেতা সংকটের কারণে আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।’
কোরবানির রান্নায় মরিচের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হলেও দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তবে আড়তদারদের আশা, ঈদের একদম শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও চাঙ্গা হবে।