বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও নিউ মার্কেট ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় কিছুটা দাম বাড়া স্বাভাবিক হলেও এবার বাড়তি চাপ বেশি। হাতিরপুল বাজারে মুরগি কিনতে আসা শহিদ মিয়া বলেন, “ঈদের সময় মেহমান থাকে, তাই বেশি দাম হলেও কিনতে হয়। কিন্তু কয়েকদিন আগে যে মুরগি ৩৬০ টাকায় কিনেছি, সেটাই এখন ৪০০ টাকা। বিক্রেতারা সুযোগ পেলেই দাম বাড়িয়ে দেন।”
বাজারে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও ঈদের আগে দাম উঠেছিল ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। তবে রোজার আগে যে ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতো, তার তুলনায় এখনো কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি।
এদিকে লেয়ার মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায় উঠেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩২০ টাকা। দেশি মুরগি আকারভেদে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেশি।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হাতিরপুলের ‘মায়ের দোয়া চিকেন হাউজ’-এর স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল ইসলাম বলেন, “ঈদের পর চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু খামার থেকে আগের মতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে।”
অন্যদিকে খামারিরা বলছেন, দীর্ঘদিন লোকসানের কারণে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিয়েছেন, যার প্রভাব এখন বাজারে পড়ছে। বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, “গত সাত মাস ধরে ডিম ও মুরগিতে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বাজারে উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমলেও দেশে অযৌক্তিকভাবে পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ানো হচ্ছে।
তার মতে, সরকার দ্রুত ফিডের দাম নির্ধারণ না করলে বাজার কয়েকটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এতে স্বাধীন খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’-এ বাধ্য হবেন।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “সরকার যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সামনে পোল্ট্রি খাতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।”