বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও জুয়াসহ গুরুতর সব অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মানুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত রাখার বিধান রয়েছে। সেই বিধির আলোকেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।
গোয়েন্দা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রকিবুল হাসান রকি একাধিক ব্যাংকে বেশ কিছু হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রকিবুলকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই সংবাদ পেয়ে তিনি কৌশলে কার্যালয় থেকে সটকে পড়েন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
অফিসে রকিবুলের আচরণ সম্পর্কে তার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা বা কথাবার্তা খুব একটা বলতেন না এবং সবসময় নিজের মতো করে কাজ করতে পছন্দ করতেন। তার এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সংবাদে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. রকিবুল হাসান খান রকির ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।