বুধবার রাত ৮টায় এ ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল দফায় দফায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নদীর তলদেশে চাপা পড়া মাটি সরানোর সরঞ্জাম না থাকায় ও তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
অপরদিকে নিখোঁজদের সন্ধ্যানের আশায় দ্বিতীয় দিনের মতো মেঘনার পাড়ে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। জীবিত হোক বা মৃত হোক নিখোঁজদের সন্ধান চান তারা।
এর আগে বুধবার (৯সেপ্টেম্বর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর মাছঘাটের মেঘনা নদীর তীরে বসে পাঁচ বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় পাড় ধসে নদীতে পড়ে যান তারা। তিন জন জীবিত উদ্ধার হলেও নিখোঁজ হন বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৬) ও তার খালাতা ভোই মো. রাকিব (২০) । আমজাদের বাড়ি ভোলা পৌরসভার ভদ্রপাড়া ও রাকিবের বাড়ি শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর তারা পাঁচ বন্ধু মিলে মেঘনা নদীর তীরে বালু ভর্তি জিওব্যাগের উপরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জিওব্যাগসহ বড় একটি অংশ ধসে তার সবাই নদীতে তলিয়ে যায়। পরে কোনো মতে তারা তিনজন সাঁতারিয়ে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব স্রোতের তোরে তলিয়ে যায়। এ সময় তারা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতেও শোনা গেছে।
নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মো. আমজাদের স্বজনরা জানায়, গত দুই মাস আগে আমজাদ ছুটিতে বাড়িতে আসেন। আগামী ১৯সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিলো। বুধবার বিকেলে বন্ধুদের সাথে নদীর পাড়ে ঘুরতে যায়৷ সন্ধ্যার পর তারা খবর পায় আমজাদ নদীতে ডুবে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে তারা নদীর পাড়ে ছুটে এসেছেন। কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ রাকিবের স্বজনরা জানান, বিকেলের দিকে রাকিব নদীর পাড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে পাড় ধ্বসে নদীতে পড়ে যায়। তার সাথের তিনজন উদ্ধার হলেও রাকিবসহ দুই জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রাকিব সাঁতার জানতো না বলেও জানায় পরিবারের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাদের ডুবরি দল নদীতে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করবে তারা।
এদিকে পুলিশ সুপারসহ রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধারকাজে তদারকী করতে দেখা গেছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার খন্দকার রিয়াজুল ইসলাম জানান, নদীতে তীব্র স্রোত। এছাড়া তীরের মাটি চাপা পড়া স্থানে স্রোতের কারণে যাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তারা অভিযান অব্যহত রেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।