যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বাড়ির দাম হ্রাসের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির অন্যতম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হ্যালিফ্যাক্স-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে বাড়ির গড় মূল্য ০.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮ পাউন্ডে (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা)। এর আগে মার্চ মাসেও বাজারমূল্য ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। এই নিম্নমুখী প্রবণতা হাজার হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশি এবং নতুন ক্রেতাদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হ্যালিফ্যাক্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার পাউন্ডে নেমেছে, যা মার্চের তুলনায় সামান্য কম। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। বছরের শুরুতে যেখানে ০.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমিয়ে ০.১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসে বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিলেও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বসন্তকালীন সেই গতি থমকে গেছে।
হ্যালিফ্যাক্স মর্টগেজ বিভাগের প্রধান আমান্ডা ব্রাইডেন বাজারের এই পরিস্থিতির জন্য বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বছরের শুরুতে বাজার বেশ আশাব্যঞ্জক মনে হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কায় ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর হতে পারে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ পরিবারগুলো এখন বড় বিনিয়োগের চেয়ে জীবনযাত্রার খরচের ভারসাম্য রক্ষা করতেই বেশি মনোযোগী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আবাসন বাজারের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ সুদের হার। তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা 'মানিফ্যাক্টস'-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের গড় ফিক্সড মর্টগেজ হার গত দুই মাসে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। মার্চের শুরুতে যা ছিল ৪.৮৩ শতাংশ, তা এখন ৫.৭ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। একইভাবে ৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ হারও ৪.৯৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। উচ্চ সুদের হারের কারণে মাসিক কিস্তির বোঝা বেড়ে যাওয়ায় অনেক নতুন ক্রেতা তাদের বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবাসন খাতের বিশ্লেষক ক্রিস হকিংসন মনে করেন, বর্তমান বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে প্রত্যাশার এক বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। অনেক বিক্রেতা এখনও উচ্চমূল্য আশা করছেন, অথচ ক্রেতারা বর্তমানে অনেক বেশি হিসাব কষে পা ফেলছেন। ফলে সঠিক দাম নির্ধারণ না করায় অনেক সম্পত্তি দীর্ঘ সময় বাজারে পড়ে থাকছে। তবে হ্যালিফ্যাক্স দাম কমার কথা বললেও, অন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান 'নেশনওয়াইড' ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, এপ্রিল মাসে বার্ষিক হিসাবে বাড়ির দাম গত ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এই মিশ্র তথ্যের মাঝেই ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা বাজারের এই সাময়িক পতনকে তাদের স্বপ্নের বাড়ি কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।