অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের আগে ক্রিপ্টো বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে এই অর্থ পেলেও ফারাজ তা নিয়মানুযায়ী সংসদীয় নথিতে ঘোষণা করেননি, যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়মবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে।
পার্লামেন্টারি কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডস ড্যানিয়েল গ্রিনবার্গ এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সংসদ সদস্যকে নির্বাচনের আগের ১২ মাসে পাওয়া উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা বা উপহার জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হয়। তবে ফারাজের দাবি, এই বিশাল অংকের অর্থ কোনো রাজনৈতিক অনুদান ছিল না, বরং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যয় নির্বাহের জন্য দেওয়া একটি 'ব্যক্তিগত উপহার'। এই যুক্তিতেই তিনি বিষয়টি ঘোষণা করার প্রয়োজন বোধ করেননি বলে দাবি করছেন।
এই তদন্তের ফলাফল ফারাজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে হাউস অব কমন্স থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হতে পারে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, যদি এই বরখাস্তের মেয়াদ ১০ দিনের বেশি হয়, তবে তার নির্বাচনী এলাকা ক্ল্যাকটনে পুনরায় উপ-নির্বাচন বা 'রিকল পিটিশন' ডাকার পথ প্রশস্ত হতে পারে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রিফর্ম ইউকে তাদের সান্ডারল্যান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুতে ফারাজের স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছে। কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৫ মিলিয়ন পাউন্ড কোনো সাধারণ অংক নয় এবং কেন এটি গোপন রাখা হলো তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা ফারাজকে দিতে হবে। লেবার পার্টির চেয়ার আন্না চার্লি বিষয়টিকে নিয়মবহির্ভূত আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। রিফর্ম ইউকে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ফারাজ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং তিনি কোনো ভুল করেননি।
বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে কারণ এখন ব্রিটিশ ইলেক্টোরাল কমিশনও এই লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় সাফল্যের পর এই অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ রিফর্ম ইউকের জন্য একটি বড় ধাক্কা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এই লড়াইয়ে নাইজেল ফারাজ শেষ পর্যন্ত নিজের আসন রক্ষা করতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।