আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করা টিকিটের দাম শেষ পর্যন্ত কমাতে বাধ্য হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন ‘ইউকে বাটা’র তীব্র প্রতিবাদ এবং দাবির মুখে বিলেত-বাংলাদেশ রুটে ওয়ান-ওয়ে টিকিটে প্রায় ১০০ পাউন্ড ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের ভাড়া কিছুটা বাড়ালেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে তা ছিল আকাশচুম্বী। যেখানে অন্যান্য বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো ৩০ থেকে ৪০ পাউন্ড ভাড়া বাড়িয়েছিল, সেখানে বিমান প্রতিটি ওয়ান-ওয়ে ফ্লাইটে ২১০ পাউন্ড পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের এমন সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভাড়া কমানোর এই প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন ইউকে বাটা। সংগঠনটির সেক্রেটারি এবং ইমরান ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান জানান, গত ১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত ভাড়ার বিষয়ে তারা বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণের জন্য তাদের পক্ষ থেকে লিখিত প্রতিবাদও জানানো হয়।
বর্ধিত এই টাকা প্রথমে 'ফুয়েল ট্যাক্স' হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাভেল এজেন্টরা এর বিরোধিতা করেন, কারণ ট্যাক্স হিসেবে নিলে আগে টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঝুঁকি তৈরি হতো। পরবর্তীতে এটি মূল ভাড়ার (ফেয়ার) সাথে সমন্বয় করার দাবি জানানো হয়, যাতে আগে টিকিট ইস্যু করা যাত্রীরা বাড়তি খরচের হাত থেকে রক্ষা পান।
বর্তমানে ভাড়া কমানোর পর লন্ডন থেকে সিলেট বা ঢাকা রুটে বিমানের গড় ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৮৫০ পাউন্ড, যা ভাড়া বাড়ার আগে ৭৫০ পাউন্ড ছিল। যদিও পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফেরেনি, তবুও ১০০ পাউন্ড কমায় প্রবাসীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে না থাকলে প্রবাসীদের মধ্যে বিমানে যাতায়াতের প্রবণতা কমে যেতে পারে, তাই ভবিষ্যতে ভাড়া নির্ধারণে আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি।