যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চোখ ও কানের অন্তত ৭৬টি ভিন্ন ভিন্ন রোগের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ ‘পার্সোনাল ইনডিপেনডেন্ট পেমেন্ট’ বা পিআইপি (PIP) সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারেন। ব্রিটেনে বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে এই বিষয়টি এখনো অজানা। এই সুবিধাটি মূলত সেইসব ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ, যারা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাপন কিংবা চলাফেরায় অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন বোধ করেন।
পিআইপি সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট রোগের নামের ওপর নির্ভর করে না; বরং রোগটি একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তার ওপর ভিত্তি করে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহায়তার জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১১৪ পাউন্ড ৬০ পেন্স এবং সর্বনিম্ন ৭৬ পাউন্ড ৭০ পেন্স পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি চলাফেরা বা ‘মোবিলিটি’র জন্য সর্বোচ্চ ৮০ পাউন্ড এবং সর্বনিম্ন ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। যদি কেউ উভয় ক্যাটাগরিতেই সর্বোচ্চ হারের সুবিধা পান, তবে বার্ষিক ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য অংকে পৌঁছাতে পারে।
এই ভাতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর কর্মসংস্থান থাকা, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় থাকা বা ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে যদি তার চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়, তবেই তিনি যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে শর্ত হিসেবে এই সমস্যাটি অন্তত তিন মাস ধরে বিদ্যমান থাকতে হবে এবং আগামী নয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে হবে। সাধারণত ইংল্যান্ড বা ওয়েলসে বসবাসরত নাগরিকরাই এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।
চোখ ও কানের সমস্যার ক্ষেত্রে যে ৭৬টি অবস্থাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সেন্সোরিনিউরাল, কন্ডাক্টিভ ও মিশ্র শ্রবণ সমস্যা, জন্মগত বধিরতা, কানে ভারসাম্যজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ। চোখের সমস্যার ক্ষেত্রে গ্লুকোমা, ছানি, রেটিনা ডিটাচমেন্ট, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা যেমন—টানেল ভিশন বা ডাবল ভিশনের মতো সমস্যাগুলোও অন্তর্ভুক্ত। মূলত দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তির কারণে যারা যোগাযোগ বা চলাফেরায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই এই সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কমিউনিটির সাধারণ মানুষের মতে, তথ্যগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্রিটিশ বাংলাদেশী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই ফর্ম পূরণ বা মূল্যায়নের ধাপগুলো অতিক্রম করতে দ্বিধাবোধ করেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই তথ্যটি কমিউনিটির মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অনেক দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থ ব্যক্তি ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারবেন।