সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে পাব, রেস্টুরেন্ট, গুদামঘর এবং হাসপাতালের মতো সেবাখাতগুলোতে কর্মরত নিম্ন আয়ের লাখো মানুষের জীবনে আর্থিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং শেষ মুহূর্তে হুট করে শিফট বাতিলের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই পরিবর্তনের রূপরেখা নিয়ে একদিকে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারের একটি নতুন পরামর্শ পত্রে জানানো হয়েছে, যেসব কর্মীর বর্তমান চুক্তি সপ্তাহে ৮ থেকে ২০ ঘণ্টা বা তার কম, তাদের নিয়মিত কাজের ধরণ বিবেচনা করে অন্তত ৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজের আইনি নিশ্চয়তা দেওয়ার পক্ষেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
এক্ষেত্রে কোনো কর্মীর নিয়মিত কাজের সময়কাল নির্ধারণ করতে আগের ১২ সপ্তাহের কাজের রেকর্ডকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সরকারের এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কর্মীরা চাইলে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় জিরো আওয়ার্স চুক্তিতে বহাল থাকতে পারবেন, তবে খুব অল্প সময়ের নোটিশে যদি কোনো কর্মীর শিফট পরিবর্তন বা বাতিল করা হয়, তবে তিনি যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার লাভ করবেন।
ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি নিয়মিত কাজ করার পরও যদি সপ্তাহ শেষে তার আয়ের কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তবে তা আধুনিক সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বড় শ্রমবাজার সংস্কার বাস্তবে কার্যকর করতে এবং এর অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে সরকার সব পক্ষের মতামত গ্রহণ করছে।
তবে সরকারের এই নতুন সংস্কার প্রস্তাব পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে। দোকান ও বিপণিবিতান কর্মীদের ইউনিয়ন 'আশডও' (Usdaw)-এর সাধারণ সম্পাদক জোয়ান থমাস এই পরিকল্পনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনী অঙ্গীকারে সব কর্মীর জন্য গ্যারান্টিযুক্ত কর্মঘণ্টার কথা বলা হলেও এখন সরকার তা আংশিক বাস্তবায়ন করছে।
তাঁর মতে, সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টার নিশ্চয়তা অনেক কর্মীর প্রকৃত কাজের সময়ের অর্ধেকেরও কম হতে পারে, কারণ তাদের অনেক সদস্য স্বল্প ঘণ্টার চুক্তিতে থাকলেও নিয়মিতভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় কাজ করেন।
একইভাবে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (TUC)-এর মহাসচিব পল নওয়াক সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবসায়ী মহলের চাপ বা ভয়ভীতি ছড়ানোর কারণে সরকার যদি পিছিয়ে যায়, তবে তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মীরা স্থায়ীভাবে অনিশ্চিত চাকরির ফাঁদে আটকে থাকবেন। মূলত লেবার সরকারের ঐতিহাসিক 'এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্ট' (Employment Rights Act)-এর অংশ হিসেবে এই আইনটি আগামী বছর থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্কৃতিতে এক বড় ধরনের রূপান্তর নিয়ে আসবে।