ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে বসবাসকারী প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে এই ভাতার ওপর নির্ভরশীল। ডিডব্লিউপি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সহায়তার আওতায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত যারা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা এবং প্রতিবন্ধকতার কারণে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্যই এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।
এটি একটি সম্পূর্ণ করমুক্ত ভাতা এবং এর জন্য আবেদনকারীর সঞ্চয় বা আয়ের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে কর্মজীবী বা শিক্ষার্থীরাও নিজেদের প্রয়োজনে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
অন্তর্ভুক্ত রোগসমূহ তালিকায় থাকা ২৪টি রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
একজিমা ও ডার্মাটাইটিস
সোরিয়াসিস ও রোসেসিয়া
আর্টিকারিয়া ও লিম্ফোডিমা
এহলারস ডানলোস সিনড্রোম (বিরল রোগ)
২০২৬ সালের শুরুতে ডিডব্লিউপি ভাতার পরিমাণ ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এই ভাতাটি প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:
১. ডেইলি লিভিং কম্পোনেন্ট (দৈনন্দিন জীবনযাপন):
স্ট্যান্ডার্ড রেট: প্রতি সপ্তাহে ৭৬.৭০ পাউন্ড।
এনহ্যান্সড রেট: প্রতি সপ্তাহে ১১৪.৬০ পাউন্ড।
২. মোবিলিটি কম্পোনেন্ট (চলাফেরা):
স্ট্যান্ডার্ড রেট: প্রতি সপ্তাহে ৩০.৩০ পাউন্ড।
এনহ্যান্সড রেট: প্রতি সপ্তাহে ৮০.০০ পাউন্ড।
আবেদনকারীকে অবশ্যই অন্তত ১৬ বছর বয়সী হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যাটি অন্তত ১২ মাস স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে হবে। আবেদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ডিডব্লিউপি-তে ফোন করে নাম নিবন্ধন করতে হয়। পরবর্তী ধাপে ‘পিআইপি-২’ ফর্মের মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিস্তারিত প্রমাণাদি জমা দিতে হয়।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। লন্ডনের এক বাসিন্দা জানান, "চর্মরোগের মানসিক ও শারীরিক কষ্ট অনেক সময় অবমূল্যায়িত হয়, এই ভাতা সেই রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি।" তবে ম্যানচেস্টারের অন্য এক প্রবাসী আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "মেডিকেল প্রমাণ সংগ্রহ ও ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, যা সহজ করা প্রয়োজন।"
বর্তমানে প্রায় ২৯,৬৩৪ জন চর্মরোগী এই ভাতার সুবিধা গ্রহণ করছেন, যার মধ্যে লিম্ফোডিমা আক্রান্তদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।