বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এই রায় দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২-১ ভোটে শুল্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে একজন বিচারক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে রায় দেওয়াকে ‘অপরিপক্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক কার্যকর ছিল। মামলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আরোপিত আরেক দফা শুল্কও বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তখন তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর অধীনে শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
ফেব্রুয়ারির আদেশে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করেন। এই ধারায় ডলারের দরপতন ঠেকাতে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যে বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলেছে, সেটি মোকাবিলায় ওই আইন প্রয়োগ উপযুক্ত ছিল না।
খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেসিক ফান!’-এর প্রধান নির্বাহী জে ফোরম্যান বলেন, এই রায় বৈশ্বিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় স্বস্তি। তিনি শুল্ক আরোপকে ক্ষমতার অপব্যবহার উল্লেখ করে আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
তিনি আরও বলেন, এই রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরবে।
ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের সময় যুক্তি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন কোনো ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টস’ সংকটে নেই, যা জরুরি ভিত্তিতে এই ধরনের শুল্ক আরোপকে ন্যায্যতা দেয়।