তুর্কি ভাষায় ‘ইয়িলদিরিম’ অর্থ বজ্র এবং ‘ইয়িলদিরিমহান’ অর্থ ‘বজ্রের শাসক’। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম এবং আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে, যা প্রতীকীভাবে অতীত ও বর্তমানকে যুক্ত করেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানান, এটি দেশটির প্রথম তরল জ্বালানিচালিত আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার।
প্রদর্শনীতে আরও জানানো হয়, এতে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘপাল্লার মিশনে উচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে তুরস্ক দ্রুত উন্নতি করেছে। এর আগে তারা ‘টাইফুন ব্লক ফোর’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করে, যার সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার। এছাড়া ‘জাংক’ নামের আরেকটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এবং একাধিক ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা রাখে। ‘ইয়িলদিরিমহান’ উন্মোচনের মাধ্যমে তুরস্ক এখন বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।