বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এই রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর সরাসরি সুবিধা পায় বড় তেল কোম্পানিগুলো। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিপি প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। একই সময়ে শেলের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে।
এ ছাড়া টোটাল এনার্জিসও বাজার অস্থিরতার সুযোগে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় কিছুটা কমলেও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো আশা করছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বছরের বাকি সময়েও জ্বালানির উচ্চমূল্য তাদের বাড়তি মুনাফা এনে দেবে।
শুধু জ্বালানি খাত নয়, বড় ব্যাংকগুলোও বিপুল মুনাফা করেছে। বাজারের অস্থিরতায় ট্রেডিং বেড়ে যাওয়ায় জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ প্রথম তিন মাসে ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকা, গোল্ডম্যান স্যাকস, সিটিগ্রুপ ও মরগ্যান স্ট্যানলিসহ বড় ব্যাংকগুলোর আয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
প্রতিরক্ষা শিল্পও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় সুবিধা পেয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লকহিড মার্টিন, বোয়িং, নর্থরোপ গ্রুম্যান ও বিএই সিস্টেমসের মতো কোম্পানিগুলোর হাতে বিপুল অর্ডার জমা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সুবর্ণ সুযোগ’ তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে এই সংকটকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।