যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ডের মতো বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ মিশনটি বর্তমানে কোনো অভিভাবক ছাড়াই চলছে। লন্ডনে অবস্থিত এই হাই কমিশনে গত প্রায় তিন মাস ধরে কোনো হাই কমিশনার নেই। গত ৭ মার্চ লন্ডন সফরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তৎকালীন হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। এর পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নতুন কোনো হাই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ এই শূন্যতার কারণে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশী এবং কূটনৈতিক মহলের মনে গভীর উদ্বেগ ও নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। হাই কমিশনার বা মূল দলনেতা ছাড়া যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে নানা প্রশ্ন উঠছে।
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের এই অভিভাবকহীন সংকট কেবল হাই কমিশনারের পদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মিশনের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ 'প্রেস মিনিস্টার'ও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। গত ১০ এপ্রিল সে সময়ের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পদত্যাগের কথা জানানোর পর থেকেই পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে মিশনের শীর্ষ এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ একসাথে খালি থাকায় প্রবাসীদের সেবা এবং রাষ্ট্রীয় প্রচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে গত ৩১ মে লন্ডন সফরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ডক্টর সালেহ শিবলী এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই লন্ডনে নতুন হাই কমিশনার ও নতুন প্রেস মিনিস্টার নিয়োগ দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই শীর্ষ দুই পদে দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস মিললেও, ঠিক কবে নাগাদ নতুন কূটনীতিকরা দায়িত্ব নেবেন সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।