সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২.২২ ডলার বা ২.১১ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.০২ ডলার বা ২.১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.৪২ ডলারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুট প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করলেও গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের হুমকি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
এদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থাও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি কোনো বৈঠক ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করে মস্কো পৌঁছেছেন এবং সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তেলের দাম বৃদ্ধির মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। Nikkei ২২৫ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং KOSPI ১.৫ শতাংশ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।