খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে ব্যয়ের সূচক ছিল ১০০, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০-এ। এই ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর উচ্চ শুল্ককে দায়ী করা হচ্ছে। মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই ব্যয় হয় পশুখাদ্যে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০.৫ থেকে ১১.৫ টাকা, অথচ পাইকারি বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৭.৫ থেকে ৮.৫ টাকায়। একইভাবে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ প্রায় ১৪৬ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সমান বা কখনো তার চেয়েও কম দামে। ফলে অধিকাংশ খামারিই লোকসান গুনে উৎপাদন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করের বাড়তি চাপ। চলতি বাজেটে করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ এবং টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পশুখাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। খামারিদের ভাষায়, এটি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।
মাঠপর্যায়ে এই সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। টাঙ্গাইলের এক খামারি জানান, উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেক দামেও অনেক সময় পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ধারাবাহিক লোকসানে পড়ে অনেকেই খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, প্রান্তিক খামারিরা ব্যবসা ছেড়ে দিলে পুরো শিল্পটি গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, যা বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য সৃষ্টি করবে। এতে ভোক্তাদের ওপর আরও বেশি চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পশুখাদ্যের কাঁচামালে কর ও শুল্ক কমানো, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয়ভাবে বিকল্প খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
বর্তমানে এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু খামারিরাই নয়, পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।