বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এ্যানি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন নির্বাচন কঠিন হবে। মাঠে গিয়ে বুঝেছি, সত্যিই নির্বাচন কঠিন ছিল। কিন্তু এত টাকার ছড়াছড়ি কোথা থেকে এলো, তা বোঝা যাচ্ছে না। ইসলামী ব্যাংকের গত দেড় বছরের লেনদেন তদন্ত করলে হয়তো এর উৎস পাওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে ব্যয়ের সীমা থাকলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে বিপুল অর্থ খরচ হতে দেখা গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের তিনি প্রশংসা করেন। তবে তারা যদি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করে আগের প্ল্যাটফর্মেই থাকতেন, তাহলে তাদের প্রভাব আরও বাড়ত। নতুন দল গঠনের ফলে তারা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে সংসদীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগকে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি ছাত্র রাজনীতি নিয়েও একই ধরনের আলোচনার প্রস্তাব দেন।
ছাত্র রাজনীতির বর্তমান চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ্যানি বলেন, “নতুন প্রজন্ম সহিংস ছাত্র রাজনীতি পছন্দ করে না। অস্ত্র ও সহিংসতার সংস্কৃতি চলতে পারে না।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে দেশকে স্থিতিশীল রাখছেন। একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে তিনি দেশের জন্য গৌরবজনক বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান—একই পরিবারের তিন প্রজন্মের নেতৃত্বকে ‘বিশ্বে বিরল’ বলেও মন্তব্য করেন।
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সরকার এ সনদের প্রতিটি শব্দ অপরিবর্তিত রেখে বাস্তবায়ন করবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতন ও ধীরে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এসবের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন।