শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফিমা আক্তার বোরাহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে।
তার স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন,পারিবারিকভাবে তিন বছর আগে দৌলতখান উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের বাসিন্দা সজিবের সাথে বিয়ে হয় ফিমার। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে একটি মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। আর্থিক টানাপোড়েনে তাদের দাবি পুরণ করতে ব্যর্থ হন ফিমার বাবা-মা, এর পরিপেক্ষিতে ফিমার ওপর নানা সময় শারিরীক নির্যাতন চালাতো তারা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ফিমা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার পর স্বামীর বাড়ির লোকজন ঘরের মেঝেতে লাশ রেখে পালিয়ে যায়।
নিহতের মা তাছনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেযয়ের স্বামীসজিব দেড় বছর আগে একটি মোটর সাইকেল দাবি করে। টাকার অভাবে মোটরসাইকেল দিতে পারিনি। মোটরসাইকেল না পেয়ে সজিব প্রায়ই ফিমাকে মারধর করতো। এ নিয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠক হয়েছে। ঈদের তিনদিন আগেও এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতবার রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ফিমার ভাই শিপনের অভিযোগ করে বলেন, পিটিয়ে হত্যার পর লাশ মেঝেতে ফেলে তার স্বামী সজিব ও পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। ঈদের দিনে এশার নামাজের পর ফিমা তার মা ও বোনের সাথে কথা বলেছেন তখনও সুস্থ ছিল। কিন্তু রাত ৪টার দিকে কেউ একজন মোবাইল ফোনে বলে ফিমা অসুস্থ তাকে হাসপাতাল নিতে হবে। কি অসুখ জানতে চাইলে গলায় ফাঁস দেওয়ার কথা বলা হয়। সকালে গিয়ে দেখতে পাই সজিবের ঘরের মেঝেতে আমার বোন ফিমার লাশ পড়ে আছে, তবে ঘরের কেউই ছিল না। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।
দৌলতখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ফখরুল ইসলাম ঢাকাপোস্টকে বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহের সুরতাহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে, তার বুকে আঘাতের মতো একটা চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ফিমা আক্তারের শ্বশুর বাড়ির কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।