বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে শহরের পুরান বগুড়া এলাকার শেরেবাংলা নগরের একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রফিকুলকে উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম দক্ষিণপাড়ার মো. বাদশা মিয়ার ছেলে মো. সজীব আহম্মেদ (৩২), শিবগঞ্জের কামতারা পশ্চিমপাড়ার মৃত ইছাহাক প্রামাণিকের ছেলে মো. লজিম প্রামাণিক (৪০) এবং মালগ্রাম উত্তরপাড়ার মো. মামুন শেখের ছেলে মো. সোহান শেখ (১৮)।
জেলা গোয়েন্দা শাখার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রফিকুলকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তুলে নেয়। পরে পুরান বগুড়ার একটি বাসায় আটকে রেখে দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁকে বিবস্ত্র করা হয় এবং সঙ্গে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চলে নির্যাতনও।
এরপর শুরু হয় আরও ভয়ংকর ‘ফোন নাটক’। রফিকুলের স্ত্রী হাজেরা বেগমের মোবাইলে কল করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয় অপহরণকারীরা। রফিকুলকে আদালতের মাধ্যমে চালান করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শোনানো হয় রফিকুলের কান্না ও চিৎকার। স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান হাজেরা বেগম।
অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পলাতক আসামি মেহেদী হাসান শিহাবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে জখম অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং ছিনিয়ে নেওয়া ও আদায় করা নগদ দুই হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার বলেন, “ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপহৃত চালককে উদ্ধার করা হয়েছে।” গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার লজিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চুরিসহ দুটি মামলা আগে থেকেই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিচয়ের আড়ালে অপরাধের নতুন কৌশল
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের এই ঘটনায় অপরাধীদের কৌশলটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ভুক্তভোগীকে আটকে রাখার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কাছে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। অর্থাৎ, শুধু শারীরিক ভয় নয়—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে মানসিক চাপও তৈরি করা হয়।